কুষ্টিয়ার ইতিহাসে আজকের কথা শিশু সাহিত্যিক রেজা মাহমুদ আল হুদা (দীপু মাহমুদ)

কুষ্টিয়ার ইতিহাস
ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন/সারিয়া সুলতানা
পৃ. ৪৮৬-৪৮৭

রেজা মাহমুদ আল হুদা (দীপু মাহমুদ)

বিশিষ্ট লেখক ও শিশু সাহিত্যিক রেজা মাহমুদ আল হুদা (দীপু মাহমুদ) ১৯৬৫ সালের ২৫ মে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রফেসর মোহাম্মদ কামরুল হুদা ও মাতা মিসেস হামিদা বেগম। বর্তমানে লেখক একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় শিক্ষা বিভাগে কর্মরত। লেখকের শৈশব ও বাল্যকাল কেটেছে মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে চুয়াডাঙ্গা জেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামে। বেড়ে ওঠা কুষ্টিয়া জেলার ‘¯েœহময়ী’ কালিশংকরপুরে। পড়াশুনা করেছেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং মতিহারের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি বিশেষভাবে জড়িত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা আর বিপুল ভোটে জয়লাভ করে রাকসু’র প্রমোদ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নাটকের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিলো। তাই তিনি কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক বিভাগে ভর্তি হন এবং উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি সাহিত্যের সবধারায় লেখালেখি করছেন। তবে শিশু-কিশোর সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। লেখাপড়ার শেষ পর্যায়ে পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে। বরেণ্য এই লেখক বলেন, ‘আমি সব বয়সের মানুষের জন্য লিখছি। আমার লেখা বেশকিছু বই আছে শিশুতোষ। আছে কিশোর গল্প ও উপন্যাস। বড়দের জন্য উপন্যাস লিখছি। আর কিছু শিক্ষামূলক বই। খুব ছোটবেলায় যারা আমার লেখা পড়বে, আমি জানি তারা কিশোর বয়সে এসে আমার লেখা খুঁজবে। আবার বড় হয়েও খুঁজবে। তাই সব বয়সের জন্য এ আয়োজন। চাকরির সুবাদে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আমার বিভিন্ন বিষয়ে কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি সেগুলো লিখে যাচ্ছি বই আকারে যেন অভিজ্ঞতা বিনিময় সম্ভব হয়।’

শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশের বরেণ্য শিশু সাহিত্যিক দীপু মাহমুদ ২০১৬ সালে শিশুসাহিত্যিক ‘মোহাম্মদ নাসির আলী’ স্বর্ণপদক, সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য পুরস্কার, স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন সুনীতি এ্যাওয়ার্ড ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদফতরের বিশেষ সম্মাননা। উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, কিশোর গল্প, কিশোর উপন্যাস, শিশুতোষ গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি সক্রিয়।

প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা পয়ষট্টি। তাঁর প্রথম লেখা ‘মেঘ জড়ানো দিন’ ছোটগল্প সংকলন হিসাবে ২০০৮ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যকে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়াসে ‘আনন্দ আলো শিশু সাহিত্য পুরস্কার-২০১৮’ পেলেন দীপু মাহমুদ। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘আনন্দ আলো শিশুসাহিত্য পুরস্কার মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গুণী লেখকরা এই পুরস্কারের কদর করে যাবেন।’

 

দীপু মাহমুদ বলেন, ‘এই পুরস্কার আমাকে উৎসাহিত করবে। পুরস্কার কাজের স্বীকৃতি, এ স্বীকৃতি দায়বদ্ধ সুষ্টি করে।’ তিনি আরো বলেন, আমি সব বয়সের পাঠকের জন্য লিখি। তবে শিশু কিশোরদের জন্য আমার লেখা বেশি। তাদের ভেতর আত্মসম্মানবোধ গড়ে তোলা, স্বপ্ন দেখতে শেখা, দেশকে ভালোবাসতে পারার কথা আমার লেখায়।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘স্বপ্নযাত্রা ১৯৭১’, ‘নিতুর ডায়েরি ১৯৭১’, ‘মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ একজন’, ‘ঊনমানব’, ‘ডোনা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস’, ‘মোটুমামা ও খুদে গোয়েন্দাবাহিনী’, ‘জুনিয়র জোনস’, ‘এলিয়েন’, ‘ভুতুড়ে আত্মা’, ‘মাহিনের জুতা জামা’, ‘কিটি’, ‘রিকি’, ‘বারো ভূত’, ‘বুসেফেলাস’, ‘মিরুর স্বপ্নখাতা’, ‘দুই জন্ম’, ‘বাঘের মন খারাপ’, ‘নয় পরি’, ‘পুতলি ও ছেলেধরা’, ‘বাড়ির সাথে আড়ি’, ‘আয় আয় ডাক পাড়ি’, ‘নিতু মেঘ হবে’, ‘মেঘ জড়ানো দিন’, ‘তরব আলির চাদর’, ‘উত্তরপুরুষ’, ‘তবু ভালোবেসো’, ‘ফিরে এসো কমেলা’, ‘ফেরা হয় না’, ‘প্রশিক্ষণের খুঁটিনাটি’, ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ পরিচয়’, ‘হাট বোয়ালিয়ার আঞ্চলিক শব্দকোষ’, ‘বয়:সন্ধিকালীন কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা’, ‘খেলতে খেলতে শেখা’ প্রভৃতি।………