আধুনিকতার ছোঁয়াতে বড়বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আমূল পরিবর্তন এবং উন্নয়ন হয়েছে

বগুড়া (ধুনট) প্রতিনিধি:

সেটা হচ্ছে আমাদের গ্রামের একমাত্র সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড়বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক জনাবা মোছাঃ ছরিনা আকতার।

বড়বিলা গ্রামে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তন্মধ্যে একটি বানবাসী মানুষদের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প “বড়বিলা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র “, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর দিক থেকে অপরটি “বড়বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”।

বড়বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গ্রামের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। গোসাঁইবাড়ী-ধুনট আঞ্চলিক প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে এবং পূর্ব বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মানাস নদীর তীরে মনোরম ছায়া ঘেরা চমৎকার নিরিবিলি পরিবেশে যার অবস্থান। শিক্ষামনা গ্রামের এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক বছর আগে ১৯৬৭ খ্রিঃ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর প্রতিষ্ঠাতা এবং জমি দাতা হচ্ছেন মরহুম আলহাজ্ব জনাব গোলাম মোহাম্মদ আম্বিয়া স্যার।
তিনি নিজেও এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকা করেছিলেন।

শিক্ষা জন্য এসো, সেবার জন্য বেড়িয়ে যাওঃ

মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক আর মানুষ গড়বার কারখানা হচ্ছে বিদ্যালয়। গ্রামের এই বহু পুরাতন বিদ্যালয়টি থেকে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে বের হয়ে গিয়েছে । যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে তেমনি ভাবে বাংলাদেশের স্বাক্ষরতার হাড় বৃদ্ধি করেছে। যেটা পল্লী গ্রামের মতোন এলাকা থেকে বড়ই প্রশংসনীয়। তাই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে সব কালের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অবিভাবক, এলাকাবাসী সব সময় মায়ের মতোন সম্মান করেন এবং ভালোবাসেন।

বর্তমান যুগ আধুনিক যুগঃ

আধুনিকতার ছোঁয়াতে বড়বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আমূল পরিবর্তন এবং উন্নয়ন হয়েছে। অতীতের সেই জীর্ণশীর্ণ শ্রেণিকক্ষ আর চোখে পরেনা। প্রিয় প্রতিষ্ঠানটির দিকে চোখ পড়তেই জ্বলজ্বল করে ভেসে ওঠে চমৎকার ইট-পাথরের তৈরি বহুতল ভবন। চারদিকে প্রাচীল ঘেরা দেওয়ালের মাঝে দৃষ্টিনন্দন বিশাল একটি ফটক। আছে শহীদ মিনার, নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, বাচ্চাদের খেলাধুলার সরঞ্জাম দোলনা-স্লিপিং ব্রেঞ্চ, মুক্ত মঞ্চ, লাইব্রেরী, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশাসনিক কক্ষ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং সুবিশাল খেলার মাঠ। আল্লাহর মেহেরবানিতে যার সব কিছুই সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় জনাবা ছরিনা আকতার মহোদয় এর জন্য। জনাবা ছরিনার জন্য শুধু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ঘটেনি বরং শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে পুরো উপজেলা পর্যায়ে তিনি বেশ প্রসংশনীয় এবং পুরুষ্কার প্রাপ্তা নারী শিক্ষক হিসাবে গৌরব অর্জন করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। এই গৌরব অর্জন এর কৃতিত্ব হচ্ছে তিনার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং তিনার সহকর্মীদের উদার সহযোগিতা।
ইতিমধ্যে তিনার অনন্য সহকর্মী এবং বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সহায়তায় বিশেষ বনায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। সুপরিকল্পিত ফুলের বাগান সহ ভেষজ, বনজ এবং ফলজ বৃক্ষের বাহারি প্রজাতির চারাগাছ রোপন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামের সামাজিক সংগঠন
বড়বিলা যুব-ছাত্র “শান্তি সংঘ” এর উদ্যোগে বিদ্যালয় চত্বরের সৌন্দর্য বর্ধন কল্পে কিছু বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে।

বিদ্যালয়টি শুধু শিক্ষা কাজেই সীমাবদ্ধ নয় বরং বহুমুখী সেবামূলক কাজে এ প্রতিষ্ঠানটি সবর্দা নিয়োজিত। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাসিক,বাৎসরিক সেমিনারের ভেন্যু হিসাবে এই প্রতিষ্ঠানটি মর্যাদা লাভ করেছে। তাছারা এলাকায় ওয়াজ-মাহফিল, জনসভা, ঈদ পূর্ণ মিলনী অনুষ্ঠান, ক্রিড়া প্রতিযোগিতা, ফুটবল-ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
এতে এলাকাবাসী ভিশন ভাবে উপকৃত হয়ে থাকেন।

সম্প্রতি বড়বিলা যুব-ছাত্র “শান্তি সংঘ” টিম এর বিশেষ প্রতিনিধিদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠান প্রধান বিদ্যালয়ের নানাবিধ সুবিধা ও অসুবিধার কথা ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে শীত ঋতুতে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে পাঠদানকালীন সময় শ্রেণীকক্ষে মারাত্মক ভাবে অনুপস্থিত থাকে। এসময় ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ভিশনভাবে চিন্তিত। তিনি আমাদের সংগঠনসহ এলাকার সকল অবিভাবকদের কাছে সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন অন্তত তাদের বাচ্চাদের নিয়মিত স্কুলে পাঠান এবং সন্তানদের যেন খোঁজ খবর রাখেন। পড়ালেখার মান উন্নয়ন এর লক্ষ্যে
বড়বিলা যুব-ছাত্র “শান্তি সংঘ” টিম এর বিশেষ প্রতিনিধিরা বার্ষিক বিশেষ শিক্ষামূলক মেধা বৃত্তি চালু করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এমন আশ্বাস পেয়ে প্রধান শিক্ষক ভিশন আনন্দিত এবং এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি আমাদের টিমের প্রতিনিধিদের ভিশন ভাবে আদর-আপ্যায়ন করেছিলেন এবং আমাদের সংগঠনের সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

আমরা এমন গুণীজনের আদর-আপ্যায়নে ভিশন কৃতার্থ।
এমন পুরাতন বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা, সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, পরিচালনা পরিষদ এর অবিভাবকগণদের প্রতি রইল সংগঠন এর পক্ষ থেকে আন্তরিক দোয়া ও মোবারক বাদ।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং প্রধান শিক্ষক জনাবা ছরিনা আকতার এর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে বিদ্যালয়টি উপজেলা পর্যায়ে সেরা বিদ্যালয় হিসাবে দেখতে চাই, ইনশাআল্লাহ।

ধন্যবাদান্তেঃ
বড়বিলা যুব-ছাত্র “শান্তি সংঘ” এর পক্ষে
জনাবঃ মোঃ হিমেল সরকার।
জনাবঃ এস.এম.মনজুরুল ইসলাম লিংকন।