ইসি গঠন- স্থায়ী আইন চায় গণতন্ত্রী পার্টি ও খেলাফত আন্দোলন

ডেক্স নিউজ:
পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ করেছে আরও দুটি রাজনৈতিক দল। সোমবার সন্ধ্যায় গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেন। গণতন্ত্রী পার্টি ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন এবং সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনসহ ৮ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের চেয়ারম্যান মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজি এবং মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেন। সংলাপে তারা একটি নিরপেক্ষ, সক্ষম, শক্তিশালী, দক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি স্থায়ী আইন প্রণয়নসহ ৬ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন।

সংলাপ শেষে প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, গণতন্ত্রী পার্টি ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন এবং সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনসহ ৮ দফা প্রস্তাবনা দেন প্রেসিডেন্টের কাছে। সংলাপে গণতন্ত্রী পার্টির নেতারা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের ও প্রস্তাব করেন।

তারা প্রস্তাব করেন যে, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে এবং এই কাউন্সিল প্রেসিডেন্টের কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে নাম প্রস্তাব করবেন।

তারা নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে যোগ্য, দক্ষ, নির্মোহ, সৎ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদেরকে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করেন।

সংলাপে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা নির্বাচন কমিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন।

তারা বলেন, ধর্মবিদ্বেষী, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, অবৈধ সম্পদের অধিকারী, সন্ত্রাসী, সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী, ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িত পরিবারবর্গকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

নেতারা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজনৈতিক দলগুলোর সকল কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার প্রস্তাবকে বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক করার প্রস্তাব দেন। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রেসিডেন্টকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ গণতন্ত্রকে বিকশিত করতে হলে পরমত সহিষ্ণুতাসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে একে অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।।