চেইন্জ মেকার বগুড়া শাজাহানপুরের আল- আমিন অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ শহীদ

সাবিক ওমর সবুজ, বগুড়া প্রতিনিধি:

মানুষ মানুষের জন্য- এ কথাটি চির সত্য। এই সত্যকে যারা বাস্তবে রুপান্তর করেন, তারাই হলেন প্রকৃত মানুষ। আর মানুষের মধ্যে এই গুণের বিকাশ ঘটাতে যারা পথ তৈরি করেন, তারাই হলেন চেইঞ্জ মেকার। এমন এক চেইঞ্জ মেকারের গল্প শুনবো। মোঃ আল আমিন, বগুড়া সরকারি আজিজুল কলেজে পড়াশোনা করে।বয়সটা তখন খুব অল্প ছিলো ।একদিন ছোট ছেলেটি দাঁড়িয়ে ছিলো জানালার পাশে। হঠাৎ তার চোখে পড়ে একজন বয়স্ক মহিলা কাঠ নিয়ে যাচ্ছেন,সম্ভবত রান্নার জ্বালানি। মহিলাটির পক্ষে কাঠ কেটে বাড়ি বয়ে নিয়ে যাওয়াটা খুব কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিলো।ঠিক তখনি সেই ছোট ছেলেটি মহিলাটির সামনে দাড়িয়ে বলে, “দাদু, আমি তোমাকে সাহায্য করছি”। সাহায্য করার পর ফেরার পথে হারিয়ে ফেলে বাসার পথ। অনেক খুজে সেদিন বাড়ি ফেরে সেদিনের বালক আল আমিন ।কলেজ পড়া কালিন সময় তিনি প্রথম অনুভব করেন, সমাজের অসহায় পথোশিশু বা গড়িব মানুষের পাশে থাকাটা তরুণ দের খুব দরকার। তিনি তাৱ এই অনুপ্ৰেৱোনা পেয়েছিলেন তাৱ বাবা মা এৱ কাছ থেকে ।বাবা মা চাইতেন তাদেৱ ছেলে একজন ভালো মানুষ হোক ,সমাজেৱ কাজ কৱুক।১০ ই মাচ ১৯৯৯ জন্ম গ্রহণ ছোট গ্রামে নাদুর পুকুর, খরনা ইউনিয়ন, শাজাহানপুর উপজেলায় বগুড়া জেলাতে। এই মানুষটির মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ ছিলো তার ছোট বেলা থেকেই।অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর প্রবল ইচ্ছে ছিলো তার।সেই লক্ষ্য সে ব্যক্তি গত ভাবে মানুষ জন্য গ্রামের মেঠোপথে ১৬ টি গ্রামে বিনা মূল্যে ১৫৬৬ জন মানুষের রক্ত গ্রুপ পরিক্ষা তার সাথে রক্ত চাপ নির্নয় ও ডায়বেটিকস পরিক্ষা এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে করোনা মহামারির ব্যপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবাই যখন ঘরে বন্দি, তখন কিন্তু স্বপ্ন বাজ মানুষটি কিছুটা বিপরীত , আর তা হবেন নাই বা কেন, তিনি তো একজন চেঞ্জ মেকার। ঘরে বন্দি মানুষ গুলোর কাছে খাবার পৌছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।অসহায়দের বিনামূল্যে খাবার,স্বাস্থ্যউপকরণ বিতরণ সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর ভাবে যাতে মানুষগুলো সুস্থ থাকে,ভালো থাকে। পাশাপাশি পথশিশুদের ইফতার করানো,তাদেরকে পোশাক ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ, অসহায়দের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সহ বিভিন্ন কাজ ব্যক্তিগত ভাবে তো চলছেই।
এই মানুষটিকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়,সেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করার মধ্যে আপনার লক্ষ্য কী ছিলো?তিনি বলেন, “সেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করার মধ্যে আমার প্রথম লক্ষ্য ছিলো দেশ ও সমাজের মানুষের সেবা করা।মানুষের পাশে দাঁড়ানো ,তাদের সহযোগিতা করা। শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের একটু শিক্ষার ব্যবস্থা করা। অনাহারি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া। সবশেষে দেশের মানুষের মুখে হাসি দেখা। তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলাই হচ্ছে আমার লক্ষ্য”
আল-আমিন কে প্রশ্ন করা হয়, সেচ্ছাসেবী হিসেবে বিভিন্ন কাজে আপনার এগিয়ে যাওয়া বা যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণার উৎস কী? সে বিষয়ে তিনি বলেন, “স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে আমার প্রথম অনুপ্রেরণা হচ্ছে বাংলা দেশের জন্য প্রাণ দেয়া ৩০ লক্ষ শহীদ। কারন এই ভাষা আর দেশের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তাদের কাউকেই জোর করে যুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হয়নি বা বলা হয়নি তোমাকে করতেই হবে বা এমন কোন কথা। ঠিক তেমনি যারা দিন ও দেশের পরিবর্তনে কাজ করেন তাদের ও বলতে হয়না আসো সমাজের জন্য কাজ করি বা দেশের জন্য কাজ করি”

সেচ্ছাসেবীরা এমনই হন,আত্মত্যাগী। তারা নিজেকে উৎসর্গ করেন সমাজের জন্য, সমাজের উন্নতির জন্য, সমাজের ভালোর জন্য। তারা প্রত্যেকে একেকজন চেঞ্জ মেকার। তাকে যখন তার কাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে কিছু বলতে বলা হয়,তিনি তার উত্তরে বলেন, “সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো দেশ ও সমাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সমাজের মানুষের মুখে হাসি ফুটানো। সমাজের জন্য কিছু করা।আর বাংলাদেশকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যেখান থেকে দেশটির সম্পর্কে সবাই জানতে পারবে”

“তরুনদের নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী”,জিজ্ঞেস করা হয় এই স্বপ্ন দ্রষ্টা কে । “আজকের তরুন’রাই আগামি দিনের ভবিষ্যৎ। আমাদের দেশ ও সমাজকে সুন্দর রাখতে তরুনদের প্রয়োজন। কারন স্বার্থহীন ভাবে তারা দেশে ও সমাজের জন্য কাজ করে যায়। শুধু মাত্র সমাজের মানুষের মুখে হাসি দেখার জন্য।তারা কাজ করে যায় মানুষকে ভালো রাখার জন্য। আমি চাই এমন তরুনদের নিয়ে দেশ ও সমাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে।