টানা বৃষ্টিপাতে দিশেহারা মানুষ

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে শনিবার সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে শিবচরসহ কয়েকটি উপজেলায়। গতকাল রোববার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। বৃষ্টি আর শীতের কারণে আটকা পরায় অনেককেই কিছুটা বিলম্বে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা গেছে। এছাড়া বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

এদিকে দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে লঞ্চ, ফেরি চলাচল করলেও বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে লঞ্চ, ফেরি ও স্পিডবোট চলছে। তবে বৃষ্টির কারণে
যাত্রীরা স্পিডবোটের পরিবর্তে লঞ্চ ও ফেরিতে পারাপার হচ্ছে।

আলভী নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা মাস্টার হাতেম আলী উকিল বলেন, সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। সামনে পরীক্ষা তাই বৃষ্টির মধ্যেও ছেলেকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়েছে। ছুটির পর দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে আছি। বৃষ্টি কিছুটা কমে এলে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যাব।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শীতের এই সময়ের হালকা বৃষ্টিতে মাঠে থাকা পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, মসুর ডাল, কালাইসহ শীতকালীন সবজির ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় জানান, অনাকাঙিক্ষত এই বৃষ্টি ফসলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে না। শীতকালীন সবজিসহ রবি শস্যের জন্য বৃষ্টির পানি উপকারী। তবে বৃষ্টির কারণে ফসলি মাঠের কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, পদ্মা শান্ত থাকায় লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক আছে। তবে শীতের সময় এই বৃষ্টিতে বেশ দুর্ভোগ পদ্মাপাড়ে।

বিআইডব্লিউটিসি’র বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় আগের মতই স্বাভাবিকভাবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফেরি চলছে।