বগুড়ায় চাষ হচ্ছে আরব মরুভূমির ত্বীন ফল

সাবিক ওমর সবুজ,বগুড় প্রতিনিধিঃ

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার ছেলে সৈয়দ সাদিক নবীন। চলতি বছরে সেপ্টেম্বর মাসে তুরস্ক থেকে ত্বীন গাছের ৬০০ চারা সংগ্রহ করে দুই বিঘা জমিতে রোপণ করেন। চারা রোপণ এর তিন মাস এর মধ্যেই ফল ধরেছে।

সৈয়দ সাদিক নবীন বলেনঃ ত্বীন ফল চাষে এক বছরে ২ লক্ষ টাকা খরচ হলেও এর চারা ও ফল বিক্রি করে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা আয় করা যায়। এ ত্বীন ফল চাষ করতে চাইলে অল্প টাকা নিয়ে চাষ করা সম্ভব। বানিজ্যিক ভাবে চাষ করলে অনেক ছেলে ও মিয়েদের কর্ম সংস্থার জায়গা হবে।এটা অনেক লাভ জনক।

ত্বীন ফল চাষে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না। বেঁলে ও দোআঁশ মিশ্রিত আমাদের আবহাওয়া তে চাষ করা সম্ভব।
প্রতিটি গাছ থেকে প্রথম বছরে এক কেজি, দ্বিতীয় বছরে ৭ থেকে ১১ কেজি, তৃতীয় বছরে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফল ধরে। এভাবে ক্রমবর্ধিত হারে একটানা ৩৪ বছর পর্যন্ত ফল দিতে থাকে। গাছটির আয়ু হলো প্রায় ১০০ বছর। তিন মাসের মধ্যেই শতভাগ ফলন আসে।

উপজেলা কৃষি অফিসার- মোঃনুর আলম বলেনঃ কোন আগ্রহী ব্যাক্তি যদি ত্বীন ফল চাষ করতে চায় তা হলে আমরা তাকে সকল প্রকার সাহায্য করবো।এই ফল চাষ করে রপ্তানি করে বৈদেশিক টাকা উপার্জন করা সম্ভব।
ত্বীন বাগান ও চাষ পদ্ধতি জানতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাষি, সাধারণ মানুষ বাগানটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। পরিদর্শনে আসা বিভিন্ন চাষি ও সাধারণ মানুষ ত্বীন ফলের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশ এই ফলকে ত্বীন নামে ডাকলেও অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে ভারত, তুরস্ক, মিসর, জর্দান ও যুক্তরাষ্ট্রে এটি আঞ্জির নামে পরিচিত। ডুমুর জাতীয় এ ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম Ficus carica ও পরিবারের নাম moraceae. এ ফলটি পুরোপুরি পাকলে রসে ঠাসা ও মিষ্টি হয়ে ওঠে।

কৃষি অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালকঃআব্দুর রহিম বলেনঃ ত্বীন ফল নয় যে কোন বিদেশি ফল চাষে সব সহয়তা করা হবে।এ ফল ব্যাপক ভাবে চাষ করলে সাফল্য অর্জন করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধে এ ফলটি খুবই উপকারি। এছাড়া নানা রোগ নিরাময়ে বিশেষ করে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ত্বীন। এটি চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য ও হাঁপানি রোগ নিরাময়েও সহায়তা করে। মানসিক ক্লান্তি দূর করে। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ক্যালিসিয়ামসহ নানা ভেষজ গুণ।