বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় মোংলা নদী বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ইমরান হোসেন,বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রুপ নেয়ার কারনে মোংলা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূল অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুইদিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মোংলায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার ভোর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় রোববার পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ’র গতি এখন মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকতা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ধেয়ে আসা খবরে দেশি-বিদেশি পর্যটক, দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীর জেলেসহ কর্মকতা ও বনরক্ষীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাওয়াদের প্রভাবে ইতোমধ্যে সুন্দরবনের নদ-নদীতে পানির উচ্চতা বেড়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দীন জানান, আমরা আবহাওয়ার খবরা খবর পর্যবেক্ষণ করছি। বৃষ্টির কারণে খাদ্যবাহী জাহাজের পণ্য খালাসের কিছুটা ব্যাহত হলেও বন্দরের অন্য সকল পন্য খালাস-বোঝাই কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে আবহাওয়া অধিদফতর ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ঘোষণা করেছে। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনের খালসহ শরণখোলা, রায়েন্দা, মোংলা ও বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।

প্রস্তুতির বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা ও রামপালসহ সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন পড়লে দ্রুত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খুলে দিতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।