বাবা মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড

ইমরান হোসেন বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলায় ফায়জুল হাওলাদার তার নিজের ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করেন বলে তার স্ত্রী অভিযোগ করেন।ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের ১৫ মার্চ।এর পর থেকে বিষয়টি বিচারাধীন ছিল।সর্বশেষ আদালত অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মোঃফায়জুল হাওলাদার (৫৩) নামের ঐ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।একই সাথে আদালত আসামীকে ২৫ হাজার টাকার অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদন্ডাদেশ দেন।
১৫ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-১ বিচারক এস এম সাইফুল ইসলাম আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত মোঃফায়জুল হাওলাদার বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার মাধবকাঠি গ্রামের প্রয়াত আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিদ্দিকুর রহমান খান জানান, ২০২০ সালের ১৫ মার্চ গভীর রাতে বাগেরহাট কচুয়া উপজেলার মাধবকাঠি গ্রামের মোঃফায়জুল হাওলাদার তার মেয়ের শোয়ার ঘরে গিয়ে ঘুমের মধ্যে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ওই রাতে আসামী ফায়জুল তার মেয়েকে দুধের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান বলে তার স্ত্রী অভিযোগ করেন। ধর্ষণের পর রাতেই মেয়েটি তার মাকে ঘটনা খুলে বললে মা তার আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলে নিজে বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুল ইসলাম পরিবারের অভিযোগ পেয়ে আসামীকে গ্রেপ্তার করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই বছরের ৩১ মে বাবা ফায়জুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বাদী পক্ষের সাতজন ও আসামী পক্ষের তিনজনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৫ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে বিচারক আসামী ফায়জুলের উপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন।আসামী পক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী ইফতেখারুল ইসলাম রানা।