শাবির ঘটনা উচ্চ শিক্ষা ধ্বংস করার চক্রান্তের অংশ

ডেক্স নিউজ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে ‘দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলার চক্রান্তের অংশ’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো পরিষদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শাবি শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ‘নীতিবহির্ভূত’। পরিষদের সভাপতি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য ড. মো. হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করা হয়। দেশের ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। পরিষদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়-শাবির উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ২০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের এক জরুরি সভা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরম জুমে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অংশ নেন। সভায় শাবিসহ অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্যরা মতবিনিময় করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শাবির বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী মহিলা হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। এরইমধ্যে হলটিতে নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলেও উপাচার্যসহ তার পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এর মাধ্যমে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ যারা আহত হয়েছেন তাদের সবার প্রতি আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নীতিবহির্ভূতভাবে ক্রমশ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়। এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলার চক্রান্তের অংশ। যা গোটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলবে। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্কটি শ্রদ্ধা, স্নেহের ও পারস্পরিক সম্মানবোধের। এটি যেন অক্ষুণ্ন থাকে তা আমাদের অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা অবশ্যই সমাধান করা সম্ভব।

এর আগে শনিবার রাতে পরিষদের সভাপতি ড. হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেছিলেন, শাবিপ্রবির উপাচার্য ক্যাম্পাসে একাডেমিক ও অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন করেছেন। ছাত্র-শিক্ষক সবার স্বার্থে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নেই। এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ আন্দোলন স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নেপথ্য রহস্য বিশেষ করে কে বা কারা উসকানি দিচ্ছেন-তা সরকারি সংস্থাগুলোকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।