সার্চ কমিটিতে নাম দেবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল

নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য গঠিত সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটির কাছে কোনো নাম দেবে না বিএনপি জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এগুলোর কোনো মূল্য নেই, অর্থহীন। নাম দেওয়ার তো প্রশ্নই উঠতে পারে না। গতবারের অভিজ্ঞতা এবং এর আগের বারের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি কোনো লাভ হয় না। সরকারের পছন্দনীয় কমিশনই তারা করবে।

সোমবার রাজধানীর পান্থপথে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের এক নেতাকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১১টায় চিকিৎসাধীন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজকে দেখতে যান। গত শুক্রবার গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন আজিজ। তার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে অবহিত হন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ নাটোরের স্থানীয় বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, আবার ক্ষমতায় যেতে যা যা করা দরকার তাই করছে। অর্থাৎ তারা আইনও একটা প্রণয়ন করে নিয়েছে। যেটা সম্পূর্ণভাবে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

গঠিত সার্চ কমিটি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সার্চ কমিটির মধ্যে বেশিরভাগ লোকই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন আছেন, যিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এ ধরনের সার্চ কমিটি যে তারা করবে, তা আমরা জানি।

সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যে কমিশন গঠিত হবে, তার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচন হবে। তবে সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেই নির্বাচন হবে না। কারণ জনগণ তাতে অংশ নেবে না।

প্রসঙ্গত, ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য গত শনিবার সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। রোববার বিকালে সুপ্রিমকোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই কমিটির প্রথম বৈঠকে নাম চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি। ১০ ফেব্রুয়ারি বিকাল পাঁচটার মধ্যে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের পাঁচটি পদে সুপারিশ করার জন্য অনধিক ১০ জনের নাম প্রস্তাব করতে পারবে দলগুলো।

সরকারি নিপীড়ন আবার বেড়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সরকারি নিপীড়ন বেড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অনেকটা বেড়েছে। গণতান্ত্রিক সব স্পেসগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে। একটা মিটিং করতে দেয় না। রোববার নয়াপল্টনের অফিসের সামনে ছাত্রদলের উত্তরের ছেলেরা একটা সভা করতে গিয়েছিল। সেখানে জায়গা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কোনো স্পেস দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টা এখন গোটা বিশ্বে স্বীকৃত, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। নিশ্চয় লক্ষ করে দেখবেন এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা তখনই আসে, যখন একটা দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। জনগণকে নির্যাতন করা হয় এবং জোর করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করে সরকার তখনই এটা (নিষেধাজ্ঞা) হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের সেনাশাসিত সরকারের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ সরকারের যে চরিত্র, মিয়ানমার সরকারের একই চরিত্র। ওখানে মিলিটারি জান্তা ক্ষমতা নিয়েছে। মিলিটারি জান্তার সঙ্গে এদের কোনো পার্থক্য নেই। এরা (সরকার) জনগণকে বন্দুকের নল দিয়ে দমিয়ে রাখছে এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

গুমের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা হাস্যকর শুধু নয়, অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ যাদের সন্তান গেছে, যার স্বামী গেছে, যাদের পরিজন গেছে তারা জানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ তা জানে। এই সরকার তো এখন পর্যন্ত জবাব দেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, কারা ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে, তাদের নামগুলো প্রকাশ করুন। যারা গুম হয়েছে তাদের মধ্যে কারা কারা গেছে। তাহলে আমরা মনে করব, আপনারা জানেন যে, ভূমধ্যসাগরে কাদেরকে আপনারা সমাধি করেছেন, সেগুলো জানতেন।