সিটি করপোরেশনে দক্ষ চালক নিয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সিটি করপোরেশনে দক্ষ চালক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ময়লার গাড়িচালকের কারণে সম্প্রতি রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সেরকম যেন আর না হয়। সাবধান হয়ে যান। নতুন, আধুনিক যেসব যানবাহন কিনবেন, সেগুলোয় দক্ষ চালক নিয়োগ দিন। প্রয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণ দিন। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এমন নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এসব তথ্য জানান। এদিকে স্বাস্থ্যের বৃহৎ কর্মসূচির ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবসহ ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এসবের বিস্তারিতও তুলে ধরা হয় ব্রিফিংয়ে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মামুন-আল-রশীদ, মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম, শরিফা বেগম প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধিভুক্ত এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা, সড়ক মেরামতে ব্যবহৃত আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ম্যাকানাইজড পার্কিং স্থাপনের যানজট নিরসনকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থান লোকালয়ের বাইরে করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যাতে কোনো রোগবালাই বা উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে না পড়ে। সেই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে বলেছেন শেখ হাসিনা। এছাড়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্যের বৃহৎ কর্মসূচি সংশোধনসহ ১১ প্রকল্প অনুমোদন : স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় কর্মসূচির সংশোধনী প্রস্তাবসহ ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩৭ হাজার ৫০৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৬ হাজার ২৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৩৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ স্বাস্থ্য জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (চতুর্থ এইচপিএনএসপি) প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে। এটির মূল ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এখন প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৩০ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৩৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রী জানান, এটি কোনো একক প্রকল্প নয়, অনেক প্রকল্পের সমষ্টি। এক প্রশ্নের জবাবে পরকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) জানান, এখন পর্যন্ত কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন হয়েছে ৬৩ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। তারপরও আগেভাগেই এটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যাতে বাস্তবায়ন পর্যায়ের কোথাও বাধাগ্রস্ত না হয়।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে-মোংলা কমান্ডার ফ্রোটিলা ওয়েস্টের (কমফ্লোট ওয়েস্ট) অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) মিলিটারি ফার্ম আধুনিকায়ন প্রকল্প। আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেন জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্প। বাংলাদেশের ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক শহরে সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন প্রকল্প। ঢাকা পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধিভুক্ত এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা, সড়ক মেরামতে ব্যবহৃত আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ম্যাকানাইজড পার্কিং স্থাপনের মাধ্যমে যানজট নিরসনকরণ প্রকল্প। ঢাকার আজিমপুরস্থ মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডাক্তার, কর্মকর্তা, সিনিয়র স্টাফ নার্স ও প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য হোস্টেল/ডরমিটরি নির্মাণ। শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। গোপালগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্মার্ট কৃষি কার্ড ও ডিজিটাল কৃষি (পাইলট) প্রকল্প।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য জাপানের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাপানের সমর্থন চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই বাস্তুচ্যুত (রোহিঙ্গা) জনগণকে মিয়ানমারে তাদের পৈতৃক বাড়িতে দ্রুত স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাপানের সমর্থন চাই।’

বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী একটি পূর্ব-রেকর্ড করা ভিডিও বার্তায় অভিমত ব্যক্ত করে বলেন যে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধানে উভয় দেশই অভিন্ন মত পোষণ করে। তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ ও জাপান বিশ্বস্ত অংশীদার এবং শান্তিপ্রিয় দেশ হিসাবে উভয়েই সব সময় একে অপরকে সমর্থন করে কাজ করেছে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় জাপানি দূতাবাস যৌথভাবে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে জাপানের স্বীকৃতির পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। ঢাকায় আবাসিক কূটনৈতিক মিশন খোলার জন্য প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে জাপান ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপান এবং সে দেশের জনগণ, বিশেষ করে স্কুলছাত্রদের মূল্যবান সমর্থন ও অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।’

তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাপানে ঐতিহাসিক সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি অবিচল ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে।’