স্থানীয় প্রজাতির সুগন্ধি তুলসীমালা ধান চাষ

ধানের নাম তুলসীমালা। স্থানীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় অত্যন্ত উচ্চমানের সুগন্ধি ধানের জাত এটি। ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলা ও আশপাশের কিছু এলাকায় চাষিরা শখের বসে জামাই বা আত্মীয়স্বজন আপ্যায়নে এই সুগন্ধি ধান চাষ করে থাকেন। তবে, পদ্মার এপার ২০টি জেলার মধ্যে তুলসীমালা ধানের এই জাতটি গত আমন মৌসুমে প্রথম চাষ হয় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দাউনিয়াফাদ গ্রামে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাব মতে, দেশে মাত্র ২০-২৫ হাজার হেক্টর জমিতে এই ধান চাষ হয়। এর শতকরা ৫০ ভাগই আবাদ হয় শেরপুর জেলায়। উচ্চফলনশীল না হলেও এই ধানের চালের কদর এখনো বেশি। সুগন্ধি কালোজিরা ধানের চালের চেয়েও আকারে ছোট সুগন্ধি তুলসীমালা ধানের চালের যে কোনো পদের খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু হয়। ধান, ধানের খড় থেকে শুরু করে মাঠময় সুগন্ধ ছড়ায়।

পদ্মার এপার ২০টি জেলায় তুলসীমালা ধানের এই জাতটি গত আমন মৌসুমে প্রথম চাষ হয় বটিয়াঘাটার দাউনিয়াফাদ গ্রামে। পাশের গুপ্তমারী গ্রামের রণজিৎ মণ্ডল পাঁচ শতক জমিতে এই ধান চাষ করেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক এস এম আতিয়ার রহমান শখের বশে শেরপুর থেকে এই ধানের মাত্র দুই কেজি বীজ সংগ্রহ করে ঐ কৃষককে দেন এবং চাষ তত্ত্বাবধান করেন।

তিনি বলেন, এই ধানটি লবণাক্ত উপকূলীয় এলাকায় হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ ছিল। কিন্তু বাস্তবে ভালো হয়েছে। তুলসীমালা এতটাই ছোট আকারের এবং রং পাকলে ধানের ছড়া দেখে সত্যিই মনে হয় তুলসীর কাঠ দিয়ে গাঁথা মালার মতো।
তিনি জানান, এই ধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ধানের ফুল আসার পর থেকে পাকা পর্যন্ত পাঁচ বার রং পালটায়। প্রথমে হালকা সবুজাভ, এরপর কিছুটা ছাইরঙা, এরপর হালকা জাম রং, এরপর গাড় জাম রং এবং শেষে কালো ও ছাই রং মিলিয়ে নতুন একটি রং ধারণ করে। ধানের গাছের উচ্চতা ৫০-৫২ ইঞ্চির মতো। ধানের আয়ুষ্কাল ১১০-১২০ দিন। একটি শিষে ৯০-১২০টি ধান পাওয়া যায়। পাঁচ শতক জমিতে দেড় মণ ধান পাওয়া গেছে। সে হিসেবে একর প্রতি ৩০ মণ ধানের ফলন হয়েছে। সবটুকু ধানই বীজ হিসেবে আগামী আমন মৌসুমে লাগানোর জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তুলশীমালা ধান দেখে অনেকেই চাষ করতে বীজের চাহিদা জানিয়েছেন। অত্যন্ত প্রাচীন জাতের স্থানীয় জলবায়ু সহিষ্ণু এই ধানের চাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এছাড়াও মূল্যবান ভিটামিন ও মিনারেলসহ অন্যান্য গুণ রয়েছে। বাজারে তুলসীমালা ধানের চাল খুব কম পাওয়া যায়। তবে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগে পাওয়া যায় বেশি। প্রতি কেজি চাল ১২০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তুলসীমালা ধানের চালই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মনিরুল ইসলাম তার ল্যাবে এই ধান নিয়ে অধিকতর গবেষণা করে চালের কিছু বৈশিষ্ট্য অন্য কোনো জাতে প্রবেশ করানো যায় কি না, সে ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন।