পল্লী নিবাসের লিচুতলায় দাফন করা হবে এরশাদকে

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের নিজ এলাকা রংপুরেই তার দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় শ্রদ্ধা রেখে রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন বেগম রওশন এরশাদ। পাশে রওশন এরশাদের জন্য কবরের জায়গা রাখার অনুরোধও করেছেন তিনি।

নিজের নির্বাচনী এলাকা রংপুরে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় রংপুর কালেক্টরেট মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। এ সময় কালেক্টরেট মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও চলতি একাদশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা মরহুম এইচ এম এরশাদের মরদেহ আজ মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টার যোগে নিজ এলাকা রংপুরে নেওয়া হয়।

বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হলেও সকাল থেকেই কালেক্টরেট মাঠে বাড়তে থাকে জনসমাগম। প্রিয় নেতাকে শেষ দেখা দেখতে মানুষ আসতে থাকে গোটা উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে। মানুষের এই স্রোত ছিল দলমত নির্বিশেষে।

এমনকি বন্যাকবলিত এলাকা থেকেও মানুষ যোগ দেয় জানাজায়। দুপুর ১২টার দিকেই মুসল্লিদের ভিড়ে মাঠ ভরে যায় অনেকটাই। এটি স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজা বলে মনে করা হচ্ছে।

জানাজায় ইমামতি করেন রংপুর করিমিয়া নুরুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ মাওলানা মুহম্মদ ইদ্রিস আলী।

প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই জানাজা মাঠে উপস্থিত হতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বিশৃঙ্খলা এড়াতে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

বেলা সোয়া ১২টায় মরদেহ আসার পরপরই পুলিশি বেষ্টনী ভাঙতে থাকেন নেতাকর্মীরা। উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে শুরু হয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। নিজ দলের নেতাকর্মী ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।  

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক জাহিদ হোসেন লুসিড বলেন, জানাজায় ও দাফনকাজে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ অংশ নিয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর থেকে এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।  বেলা পৌনে ১২টায় তার মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসে এসে পৌঁছায়।

এরশাদের কফিনের সঙ্গে রয়েছেন ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রংপুর জেলা দোকান মালিক সমিতি নগরীর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সকাল থেকে নগরীর সব দোকান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এদিকে, রংপুর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বলছেন এরশাদের অন্তিম চাওয়া ছিল তাঁকে রংপুরেই দাফন করা হোক। সে জন্য পল্লী নিবাসের লিচুতলায় কবর খনন করা হয়েছে। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, জানাজা শেষে স্য(এরশাদ) মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পল্লী নিবাসে। সেখানে লিচুতলায় তাঁকে দাফন করা হবে। এ জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।