মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় মিলছে না ইলিশ

সাধারণত জুন মাস থেকেই ইলিশের মৌসুম শুরু। আগস্ট হচ্ছে ইলিশের ভরা মৌসুম। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সাগর ও সাগর মোহনায় ইলিশ ধরা পরতে শুরু করলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় ইলিশের ভরা মৌসুমেও কাংখিত ইলিশের দেখা মিলছে না। ইলিশ না পেয়ে হতাশ ভোলার জেলেরা।

যে মুহূর্তে ভোলার মৎসঘাটসমূহ জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের হাকডাক আর কোলাহলে পরিপূর্ণ থাকার কথা সেখানে এখন তা নেই।

মৎস বিভাগের তথ্যমতে দেশের মোট উৎপাদিত ও আহরিত ইলিশের ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ইলিশ আসে ভোলা জেলার মেঘনা, তেতুলিয়া আর এসবের শাখা নদী থেকে।

ভোলা জেলা মৎস কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইনলাম জানান, গত বছর ভোলা জেলায় এক লাখ ৩০ হাজার মে. টন ইলিশ আহরিত হয়েছিল যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার মে. টন বেশী। তাই এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় এক লাখ ৬০ হাজার মে. টন।

ভোলা জেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী ও এর শাখা নদীসমূহ মিলিয়ে প্রায় তিনশ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশ আহরণ করা হয়। এর মধ্যে এক শত ৯০ কিলোমিটার জলসীমা ইলিশের অভয়ারণ্য।

গত বছরের আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে ইলিশ আহরিত হয়েছিল ২০ হাজার মেট্রক টন। এবার সেখানে সর্বোচ্চ সাত মে. টন ইলিশ জুটেছে।

ভোলা জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৩২ হাজার দুইশ ৫০ জন। তবে বাস্তবে রয়েছে তিন লক্ষাধিক। জেলায় ইলিশ আহরণে প্রায় এক লাখ ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকা রয়েছে এর মধ্যে মাত্র দুই শত ট্রলার শুধু বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরণে যায়। যেসব জেলে ট্রলার সমুদ্রে যায় তারা শেষ সময়ে কিছু ইলিশ পেয়েছে। তারা এখন মোটামুটি খুশি। আর যে জেলেরা মেঘনা ও তেতুলিয়ায় বহু আশা নিয়ে ইলিশ আহরণে গেছে তারা গত এক মাস আগের চেয়ে কিছু বেশি পাচ্ছে। কিন্তু কোনক্রমেই তা প্রত্যাশিত মাত্রায় নয়। ফলশ্রতিতে এনজিও আর মহাজনের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ভয়ে অনেক জেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ভোলার আড়ৎদার মোহাম্মদ নোয়াব আলী বলেন, ‘জেলেরা আমাদের কাছ থেকে যেমন দাদন নিয়েছে , আমরাও ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি। জেলেরা মাছ দিতে পারছে না, আমরাও ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে পারছি না, আমরা অসহায় অবস্থায় আছি, এখন ব্যাবসা ছেড়ে দেয়ার পালা।’

তিনি জানান, নয়শ গ্রাম থেকে এক কেজি গ্রেডের ইলিশের কেজি গড়ে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার তিনশত টাকা। ৬০০ গ্রাম থেক ৮০০ গ্রাম গ্রেডের কেজি বিক্রি হচ্ছে আট শত টাকা আর এর নিচের গ্রেডের বিক্রি হচ্ছে পাচ থেকে ছয় শত টাকা কেজি দরে। তিনি আরো জানান প্রান্তিক জেলে কিন্তু এর চেয়ে কম মূল্য পাচ্ছে।

ভোলার জেলে হাবিবুর রহমান জানান, এক মাস আগে নদীতে যেয়ে তেলের মূল্যও আসতো না। এখন সামান্য কিছু লাভ হচ্ছে। কিন্তু তাতে গত দুমাসের লোকসান উঠছে না। জেলেদের মধ্যে অধিকাংশই নিষিদ্ধ সময়ের সরকারি সাহায্য পাননি। কারণ, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের তিন গুণ প্রকৃত জেলে রয়েছে।

জেলা মৎস কর্মকর্তা অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘২০১৭ সনের পর জেলে নিবন্ধন বন্ধ রয়েছে। ইলিশের ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে এবং মৎস আহরণের নিষিদ্ধ সময়ে সরকারি প্রণোদনা না পেয়ে এখন ভোলার অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করছে।’