২০ লাখ এমআরপি পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হবে

দেশে ই-পাসপোর্ট চালু করতে দুই দফা তারিখ নির্ধারণ করেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ই-পাসপোর্ট চালু করতে আরো প্রায় দেড় বছর লাগতে পারে। ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত পাসপোর্ট সেবা অব্যাহত রাখতে ২০ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বুকলেট এবং ২০ লাখ লেমিনেশন ফয়েল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে গতকাল বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বলেন, ই-পাসপোর্ট চালু হতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। আশা করা যাচ্ছে, এটা বাস্তবায়নে যে কোম্পানি কাজ করছে, তারা ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে। তারপর তা প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট চালুর প্রথম লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। পরে তা ১ জুলাই পুনর্নির্ধারিত হয়। এই তারিখেও ই-পাসপোর্ট চালু করতে না পারায় পিপিআর বিধি ৭৪(৪) অনুযায়ী ২য় ভেরিয়েশন অর্ডারের মাধ্যমে ২০ লাখ পাসপোর্ট বুকলেট এবং ২০ লাখ লেমিনেশন ফয়েল ক্রয়ের লক্ষ্যে গত এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত্র মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনক্রমে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ডি লা রুই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সাথে ৪০ কোটি ৭১ লাখ ৬৯ হাজার টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা সরবরাহের অপেক্ষায় আছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে মজুদ পাসপোর্ট বুকলেটের সংখ্যা তিন লাখ ৯৯২টি এবং লেমিনেশন ফয়েলের সংখ্যা তিন লাখ ৭৯ হাজার ৭৩০টি।

সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে ২০ লাখ পাসপোর্ট বুকলেট এবং ২০ লাখ লেমিনেশন ফয়েল। মজুদ ও সরবরাহকরা পাসপোর্ট বুকলেটের সংখ্যা ২৩ লাখ ৯৯২টি এবং লেমিনেশন ফয়েলের সংখ্যা হবে ২৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩০টি। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ পাসপোর্ট ইস্যু করতে হয়।

সে অনুযায়ী উল্লিখিতসংখ্যক পাসপোর্ট বুকলেট ও লেমিনেশন ফয়েল দিয়ে আগামী পাঁচ-ছয় মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ আগামী ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চাহিদা মেটানো সম্ভব হতে পারে। দেশের বিভাগীয়/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইস্যু অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, জার্মানির ভেরিডস জিএমবিএইচ কর্তৃক ২০১৯ সালের ১ জুলাই ই-পাসপোর্ট চালুর তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এখনো সংস্থাটি নিশ্চিতভাবে সঠিক দিনক্ষণ সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারছে না। ফলে পুরোপুরিভাবে সব অফিসে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বুকলেট ও লেমিনেশন ফয়েল প্রয়োজন হতে পারে তা উল্লেখ করে মতামত দেয়ার জন্য ই-পাসপোর্ট প্রকল্পকে চিঠি দেয়া হয়। ই-পাসপোর্ট প্রকল্প কার্যালয় থেকে উল্লেখ করা হয়, সব অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট চালুর পূর্ব পর্যন্ত জনগণের পাসপোর্ট চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত ২০ লাখ পাসপোর্ট বুকলেট ও ২০ লাখ লেমিনেশন ফয়েলের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে কয়েকটি পত্রিকায় দরপত্র প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হয়।

জানা গেছে, নতুনভাবে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট পেতে এখন থেকে প্রায় এক বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। জার্মানির ভেরিডস জিএমবিএইচ-এর সাথে চুক্তি অনুযায়ী প্রথম অফিসে (আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, উত্তর) ই-পাসপোর্ট চালু থেকে পর্যায়ক্রমে সব অফিসে ই-পাসপোর্ট চালু হতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগবে। এভাবে ই-পাসপোর্ট সম্পূর্ণভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পাসপোর্টের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ২০ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বুকলেট এবং ২০ লাখ লেমিনেশন ফয়েল ক্রয় করা বিশেষ প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দর প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট ক্রয় করা হলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরকে চার-পাঁচ মাস পাসপোর্ট সঙ্কট মোকাবেলা করতে হতে পারে। এতে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ, পাসপোর্টের আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে এবং জনগণের বিদেশ গমনে বিঘœ ঘটার আশঙ্কাও সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিবেচনায় গত ১২ সেপ্টেম্বর তারিখে পত্রিকায় সংশোধনী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বুকলেট ও লেমিনেশন ফয়েল সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করা হয়।

অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুুমোদন পাওয়ার পর এখন দ্রুত পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গেছে।